নওগাঁ জেলা প্রশাসকের আর্থিক শিক্ষা সহায়তা পেলেন দুইজন অসহায়-গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে বার।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির লক্ষ্যে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা পেলেন দুইজন অসহায় ও গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে। বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তির সহযোগিতা হিসেবে নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর হাতে আর্থিক সহায়তার অর্থ তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

আবেদনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক ভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে স্বপ্নের বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ওই দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার জেলা প্রশাসকের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে।

জেলার প্রত্যন্ত এলাকা পোরশা উপজেলার বাংগালপাড়া গ্রামের অসহায় দিনমজুর মোবারক হোসেনের বড় ছেলে আলী হাসান। তিনি ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ১৭৯৯তম স্থান অর্জন করেছে। বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবার এর পক্ষে সেই অর্থ যোগান দেওয়া অসম্ভব। তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা। এছাড়া তার ছোট বোন দ্বাদশ ও ছোট ভাই ৭ম শ্রেণিতে পড়া লেখা করছে। পুরো পরিবারের খরচ যোগাতে গিয়ে তার দিনমজুর বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। তাই আলী হাসান বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আর্থিক সহযোগিতা পেতে পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আলী হাসানকে বিশ্বিবিদ্যালয়ে ভর্তির সহযোগিতা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।

অপরদিকে একই উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের দিনমজুর জাহিদুল ইসলামের মেধাবী ছেলে মুহতাসিম উলফাত। উলফাত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ১৭৪২তম স্থান অর্জন করেছে। কিন্তু তার পরিবার গরীব ও অসহায় হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উলফাতের ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন। যে টাকা তার দিনমজুর বাবার একার পক্ষে যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সে আর্থিক সহযোগিতার জন্য পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে জেলা প্রশাসক উলফাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সহযোগিতা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।

 

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল ইসলাম জানান শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি এবং একইসাথে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা আছে। ইতোপূর্বেও আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় হিসেবে শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক স্যারের সহযোগিতায় উপজেলার দুজন কৃতি শিক্ষার্থীকে অভিনন্দিত করা হয়েছে। আগামীতেও এই সহযোগিতা প্রদানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান গরীব ও অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণে সার্বিক সহযোগিতা দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীদের পারিবারিক অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ার কারণে ভর্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার মতো অর্থ যোগান দিতে তাদের পরিবার সক্ষম না হওয়ার কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য এই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি অসহায় ও গরীব এই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতো তাহলে এই মেধাবীরা সুন্দর পরিবেশে তাদের মেধার সঠিক প্রকাশ করার সুযোগ পেতো। এসময় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে বিনির্মাণ করার আহ্বান জানান তিনি। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মেধা আর মননকে দেশ, জাতি ও নিজের পরিবারের কল্যাণে প্রয়োগ করার সুযোগদানে মেধাবীদের এই ধরণের সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম বিগত সময়েও অব্যাহত ছিলো এবং আগামীতেও অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।