বগুড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়া, দলিল লেখক সমিতির নেতা গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫০ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ২২ বার।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় চত্বরে ছুরি হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে মাসুদ পারভেজ রনি (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাসুদ পারভেজ রনি বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

 

শনিবার বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

 

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বগুড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় চত্বরে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, বগুড়া সদর শাখার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রনি। ভোট গণনার একপর্যায়ে নিজের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে জোর করে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার জন্য চাপ দেন।

 

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তাঁর ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে রনি বহিরাগত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে তাণ্ডব শুরু করেন বলে অভিযোগ। বিকেল তিনটার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি ধারালো অস্ত্র হাতে সেখানে মহড়া দেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়ার ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা হয়।

 

ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে রনি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।

 

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী বলেন, আত্মগোপনে থাকা রনিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নাটাইপাড়া এলাকা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।