বগুড়ায় জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৭:৪৮ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’।

 

বুধবার সকাল ১০টায় শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।

 

তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও অহংকারের চর্চা হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার করা হবে। ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান ঘটিয়ে স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও কর্মমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এ আন্দোলনের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রেজাউল করিম বাদশা আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের ঐক্য। অন্যকে দোষারোপ না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আত্মসমালোচনা এবং কাজের মাধ্যমে দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত সামিউল ইসলাম সিয়াম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, কোনো ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়।

 

সিয়াম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তায় অনেকে ভুয়া পরিচয়ে সুবিধা পেলেও আন্দোলনের অন্যতম দাবি ‘জুলাই সনদ’ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আহত অনেকেই শরীরে বুলেটের স্প্লিন্টার নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিনা মূল্যে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাতমাথায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ. কে. এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং জেলা সিভিল সার্জন মো. খুরশীদ আলম।