জুলাই সনদ না মানার অভিযোগে বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৭:২৩ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ১০৩ বার।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে বগুড়ায় সাত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের বগুড়া ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত এবং জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচিত।

পদত্যাগকারীরা হলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শাফিকুর রহমান শাফি, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এমদাদুল ইসলাম, সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আরিফুর রহমান, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, ইন্দ্রজিৎ ও আতাউর রহমান সবুজ।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর তাঁরা বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

জেলা প্রশাসকের কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম আকন্দ, সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মল্লিক, আতাউর রহমান সবুজ, সাইফুদ্দীন সাইফুল, দলিলুর রহমান ও আল-আমিনসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পদত্যাগপত্রে শাফিকুর রহমান শাফি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের বিরোধিতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব জুলাইয়ের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

পদত্যাগপত্রে শাফিকুর রহমান বলেন, এসব ঘটনা সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিবেকের তাড়নায় পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।