প্রথমবার অংশ নিয়েই চ্যাম্পিয়ন বগুড়া সিটি করপোরেশন
স্টাফ রিপোর্টার
টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জিতেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। বুধবার বিকেলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফুটবল মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে বগুড়া সদর উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সিটি করপোরেশন দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। এরপর ম্যাচের ফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। প্রথম চারটি করে শটে দুই দলের ব্যবধান হয়নি। ৪-৪ সমতায় ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে। শেষ মুহূর্তে সদর উপজেলার শট ঠেকিয়ে সিটি করপোরেশনকে শিরোপা এনে দেন গোলরক্ষক আবদুল হাকিম। ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের জন্য তিনিই ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।
চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফির পাশাপাশি নগদ তিন লাখ টাকা এবং রানার্সআপ সদর উপজেলা দলকে ট্রফি ও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়।
ফাইনাল দেখতে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামসংলগ্ন মাঠে হাজারো দর্শকের সমাগম হয়। মাঠের চারপাশে জায়গা না পেয়ে অনেকে গাছের ডালে, আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদে এমনকি পরিত্যক্ত ফ্লাডলাইটের টাওয়ারেও উঠে খেলা দেখেন। কেউ কেউ বাড়ি থেকে কাঠের টুল এনে মাঠের পাশে বসে খেলা দেখেন। এতে দর্শকদের ভোগান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
দর্শকদের এমন দুর্ভোগের বিষয়টি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নজরে আসে। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দর্শকেরা যেভাবে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে এবং গাছের ডালে উঠে খেলা দেখছেন, তা চোখে পড়ার মতো। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, খুব শিগগিরই এই মাঠের চারপাশে গ্যালারি নির্মাণ করা হবে।’
এ ছাড়া বগুড়ায় আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা দর্শকদের বসার সুব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে জেলার ১৩টি উপজেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশন দল অংশ নেয়। টুর্নামেন্ট ঘিরে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ফাইনাল ঘিরে মাঠে দর্শকের ঢল নামে। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে উঠে খেলা দেখেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী।