শতবর্ষের উৎসবে সিহালী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাণের মিলনমেলা
স্টাফ রিপোর্টার
শতবর্ষে শত প্রাণ, বাজুক মনে ঐক্যতান—এই শ্লোগানে উদযাপিত হলো বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার সিহালী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব। বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা বসে। নানা আয়োজনে ভরপুর এই আয়োজন পরিণত হয় এক বাঁধভাঙা আনন্দ-উৎসবে।
উৎসবের প্রথম দিনেই বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় প্রাণ ফিরে পায় বিদ্যালয় চত্বর। সাত শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে মেতে ওঠেন। চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে হাসি, আনন্দ আর স্মৃতিচারণায়।
বিশাল প্যান্ডেলে দিনভর চলে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ফাঁকে ফাঁকে চলে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সেলফি ও ফটোসেশন। বর্তমান শিক্ষার্থীরা আবীর রঙে রাঙিয়ে দেয় নবীন-প্রবীণদের মিলনমুহূর্ত। প্রিয় সহপাঠীদের পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হারুনুর রশিদ। সভাপতিত্ব করেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ।
শতবর্ষ পূর্তির এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তারা ফিরে যান তারুণ্যের দিনগুলোতে, বন্ধুদের বুকে জড়িয়ে ধরেন, আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কেউ পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত, কেউ বা হাঁটতে থাকেন প্রিয় সেই গাছতলার দিকে, যেখানে বসে কেটেছে সোনালি শৈশব।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও অতিথিদের বক্তব্যপর্ব। বক্তব্য রাখেন পিরব ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইনছান আলী, সাবেক প্রবীণ শিক্ষার্থী গোলাপ হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ওমর ফারুক মিশু, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফজাল হোসেনসহ আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী, মাশকুর রহমান, ইব্রাহিম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দুপুরের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ, গান, কৌতুক ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে উৎসব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। নবীন-প্রবীণের অংশগ্রহণে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয় চত্বরে। আয়োজক কমিটি অতিথিদের আপ্যায়ন ও সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।