ঢাকায় স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন বগুড়ার ফাহিমা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ১৩:১৭ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ৪৪২ বার।

বগুড়ার মেয়ে  ফাহিমা আক্তার  ঢাকায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  ২৭ আগস্ট বুধবার সকালে ঢাকা মিরপুর রুপনগর থানা এলাকায় তিনি হত্যাকান্ডের শিকার হন । নিহতের মরদেহ বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহত ফাহিমা বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও এরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল লতিফ মন্ডলের কন্যা। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ফাহিমা ছিলেন বগুড়া এফ ইউ স্কুল এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের সাবেক ছাত্রী। শৈশব থেকে তিনি ভদ্রতা, সৌন্দর্যবোধ ও পরিপাটির জন্য পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বিবাহিত জীবনে তিনি ছিলেন এক নীরব যোদ্ধা, দাম্পত্য নির্যাতনের শিকার হয়েও বারবার চুপ থেকেছেন, যাতে নিজের সম্মান ও আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।  

 

তার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী জানান, প্রায় দেড় বছর আগে ফাহিমা তার সাথে যোগাযোগ করে এক ব্যক্তির অনৈতিক সম্পর্কের খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মুখ ফুটে স্বীকার করেননি যে লোকটি তার স্বামী। পরবর্তীতে আরেকবার ছোটবোনের সাথে দেখা হলে জানা যায়, তার স্বামী মদ্যপান, শারীরিক নির্যাতন এবং নানা অশোভন আচরণে জড়িয়ে আছে। ওই বান্ধবির ভাষায়, "ও ছিলো ভীষণ ভালো মানুষ ভদ্র, সুশীল, পরিপাটি। ওর জীবনের শেষ অধ্যায় যে এত নিষ্ঠুর হবে, তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে,"।  এ ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি ফাহিমার হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আর কোনো নারী এভাবে নীরবে নির্যাতনের শিকার না হন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার রূপনগর থানার  ইন্সপেক্টর জুয়েল রানা জানান, এ ঘটনায় নিহতের বোন হাবিবা খাতুন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মিনারুল আকবরকে গ্রেফতার করেছে।

 

এদিকে ফাইমা আক্তারের লাশ আজ ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তা জানান।