বগুড়ার শেরপুরে নৌকা বাইচ মেলার নামে চলছে অশ্লীল নাচ-গান ও জমজমাট জুয়া

শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অগাস্ট ২০২৫ ২২:১১ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে বার।

বগুড়ার শেরপুরে নৌকা বাইচ মেলার নামে চলছে অশ্লীল নাচ-গান ও জমজমাট জুয়া খেলা। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন বিকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত চালানো হচ্ছে এসব কর্মকান্ড। তাই যাদু প্রদর্শনীর প্যান্ডেলে খোলামেলা নাচ-গান চললেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া নামক স্থানে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার ২৭ আগস্ট শুরু হয় ওই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বিএনপির দলীয় শেরপুর-ধুনট আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রশাসনের লিখিত কোন অনুমতি না থাকলেও নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বসানো হয়েছে সপ্তাহ ব্যাপি গ্রামীণ মেলা। কিন্তু মেলায় তেমন কোন দোকানপাট না বসলেও যাদু প্রদর্শনীর নামে তিনটি ঝলমলে প্যান্ডেলে বিকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত সমান তালে চালানো হচ্ছে অশ্লীল নাচ-গান।টাঙ্গাইল ও যশোরের নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের কে নিয়ে এসে খোলামেলা নাচ-গান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে অবৈধ লটারি ও জুয়া।এমনকি খাজনার নামে দোকানগুলো থেকে চাঁদাও উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান, তছির উদ্দিন, রজিব উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য নৌকা বাইচ খেলা। প্রতিবছর নৌকা বাইচ হাজার হাজার নারী- পুরুষ দেখতে আসেন। গ্রামীন আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন তারা কিন্তু এই উৎসবকে পুঁজি করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে। যাদু প্রদর্শনীর নামে চালানো হচ্ছে অশ্লীল নাচ-গান। যা দেখে এলাকার তরুণ যুবকসহ নানাশ্রেণী পেশার লোকজন বিপদগামী হচ্ছে। এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। প্রশাসনসহ সব মহলকে ম্যানেজ করেই এসব চালানো হচ্ছে।তাই তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেলা কমিটির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সুঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ন কবির বিপ্লব বলেন, নৌকা বাইচের মেলায় কোন অশ্লীল নাচ-গান হচ্ছে না। কেবল যাদু খেলা দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈন উদ্দিনের সরকারি মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয় কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আশিক খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ওই মেলার কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে মেলা হচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু সেখানে অশ্লীল নাচ-গানের বিষয়ে কিছু জানা নেই। এধরনের কর্মকান্ড হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দাবি করেন এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।