বগুড়া আরডিএ’র নিয়োগ জালিয়াতি রিমাণ্ডের জিজ্ঞাসাবাদে দুই চাকরি প্রার্থী

শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২৩ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ১৩০ বার।

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (আরডিএ) নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনার মূল নায়কসহ জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আইনের আওতায় আনা হবে। শনিবার (০৮নভেম্বর) এমনটাই জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শেরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রকিব হোসেন।

 

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত চব্বিশ ঘন্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সে অনুযায়ী রিমাণ্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। ঘটনার মূলহোতাসহ জড়িতদের তথ্যও দিয়েছে তারা। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ তাদের সঙ্গে আসা দুইজন ও পরীক্ষার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি এই ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় ০২নভেম্বর আরডিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন বাদি হয়ে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরআগে ওইদিন সকালেই দুই চাকরি প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। তারা হলেন-জেলার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের সাতবেকি গ্রামের জাহিদ হোসেনের  ছেলে জিহান আফ্রিদি ব্রাইট (২২) ও বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের সজিব হোসেনের স্ত্রী মোছা. শাপলা বেগম (২৯)। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরের ফতুল্লা শিমু মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। গত ০১নভেম্বর আরডিএ’র অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর ওই পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। পরে থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুইজনসহ অজ্ঞাত আরো বেশকয়েকজন ব্যক্তিকে আসামি করা হয় হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের দশমাইল নামক স্থানে অবস্থিত বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (আরডিএ) অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার পদে লোক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অফিস সহায়ক পদে পাঁচ হাজার দুইশ’ সত্তর ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পাঁচ হাজার আটশ’ ঊনিশজন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে দুই পদে মোট দুই হাজার দুইশ’ সাতাআশি জন চাকরি প্রার্থী ০১নভেম্বর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে উর্ত্তীণ হন একশ’ চব্বিশ জন।

পরে একইদিন বিকেলে আরডিএর মহা-পরিচালকের কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় উর্ত্তীণদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। এসময় পরীক্ষার বিষয়ে জিহান আফ্রিদি ও শাফলা বেগমের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক হওয়ায় পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে তাদের হাতের লেখার কোনো মিল না থাকায় দুইজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। এরপরই মূলত নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়ে এবং আরডিএ’র প্রশাসনসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাসহ আরো দুইজনকে আটক করেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে মামলায় অজ্ঞাত কারণে তাদের আসামি করা হয়নি। ফলে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কিন্তু রিমাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তি জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া তারা নিজেরাও পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্বীকার করে ওই ঘটনার সব তথ্যই পুলিশকে দিয়েছেন। অচিরেই তাদের আইনে আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে ওই নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাক-না কেন কেউ রেহাই পাবে না বলে দাবি করেন তিনি।

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর মহা-পরিচালক ড. এ. কে. এম. অলি উল্ল্যা বলেন, মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া দুই চাকরি প্রার্থীকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এখন দায়িত্ব পুলিশের। ঘটনাটির সঙ্গে যারাই জড়িত থাক-না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে ভষিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।