সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবসে ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়ার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪৭ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

আজ পহেলা জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকাল ৪ টায় ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদ কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি বায়েজিদ রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয় ভৌমিক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আমিনুল ফরিদ, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহনিয়াজ কবির খান পাপ্পু, ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলার সাবেক সভাপতি ছাব্বির আহম্মেদ রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফ্রিক হাসান প্রান্ত, কোষাধ্যক্ষ রাকিব হোসেন, সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান রনি, সদস্য অন্তর কুমার প্রমুখ।

আলোচনার শুরুতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মিছিলে শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ”১৯৭৩ সালের এই দিনে ভিয়েতনামে মুক্তিকামী মানুষের ওপর চলমান মার্কিন বোমা হামলা এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভিয়েতনাম সংহতি দিবসে শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম এবং মির্জা কাদেরুল ইসলাম। দূরপ্রাচ্যের ভিয়েতনামিরা যখন নাপাম বোমায় ক্ষত-বিক্ষত, হাজার মাইল দূরে থেকে সে বেদনা বুকে ধারণ করে, প্রতিবাদে শামিল হওয়ার মন্ত্র বৃথা হতে দেননি এ দুই মহানায়ক।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও সাম্রাজ্যবাদ নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আজ সামরিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, ঋণনির্ভরতা, বহুজাতিক কর্পোরেট লুণ্ঠন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক ও আফগানিস্তানে আগ্রাসন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং আজকের ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব—সবই আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির নগ্ন উদাহরণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক লড়াই। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও পুঁজির প্রভাব আমাদের শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। শিক্ষাকে পণ্য বানানো, বৈষম্য বাড়ানো ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করার পেছনে এই সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার ভূমিকা স্পষ্ট।"

বক্তারা আরো বলেন, "মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী তোষণ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় মদদ দেয়ার প্রবণতা দেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই জোরদার করতে হবে। বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই জারি রাখতে হবে। ফিলিস্তিনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় জায়নবাদী শক্তির গণহত্যার বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার সংগ্রামে ৭৩ এর মতই আমরা সংহতি জারি রাখবো। কাশ্মীরসহ দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণের যূথবদ্ধ সংগ্রাম বিজয়ী হবে।"

আলোচনা সভা থেকে বক্তারা, সরকারকে দিবসটির তাৎপর্য উপলব্ধি করে ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে ১ জানুয়ারীকে 'সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস' ঘোষণার আহ্বান জানান। একইসাথে ভারতসহ বিভিন্ন আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের সাথে সকল নতজানু চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ এবং অতিদ্রুত বাতিলের আহ্বান জানান।