চকচকে আউটলেট, বগুড়ায় ভাই বোন ফুচকা কারখানায় ইঁদুরের ফাঁদ ও কবুতরের বিষ্ঠা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৮:২৩ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

চকচকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আউটলেটে ফুচকা-চটপটি বিক্রি হলেও বগুড়ার ‘ভাই বোন ফুচকা’র কারখানায় পাওয়া গেছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির চিত্র।

 

ফুচকা তৈরির টেবিলের পাশেই ছিল ইঁদুর ধরার ফাঁদ। মাথার ওপর রাখা কবুতরের খাঁচা থেকে বিষ্ঠা ও পাখনার ময়লা পড়ছিল খাবার তৈরির জায়গায়। অভিযানে পাওয়া গেছে পচা ডিম, পচা ও নিম্নমানের শসা-গাজরও।

 

এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে কারখানাটির কার্যক্রম ১২ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির ফুচকা ও চটপটি তৈরির কারখানায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়।

 

অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহজালাল।

 

তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির বাইরের পরিবেশ ও আউটলেটের চাকচিক্যের সঙ্গে কারখানার ভেতরের অবস্থার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। কারখানার পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।”

 

অভিযানে ফুচকা ও চটপটির জন্য তৈরি করা গরম টক নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। কয়েক দিন আগে সেদ্ধ করা পচা ডিম এবং খাবার তৈরিতে ব্যবহারের জন্য রাখা পচা ও নিম্নমানের গাজর-শসাও পাওয়া যায়।

 

শাহজালাল বলেন, “ইঁদুরের উপদ্রব, কবুতরের বিষ্ঠা এবং পচা কাঁচামাল দিয়ে খাবার তৈরির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ।”

 

কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে পরিবেশ উন্নত করার জন্য ১২ দিনের সময় চেয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এই সময় কারখানাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে পরিবেশ সন্তোষজনক মনে করলে পুনরায় কারখানা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।

 

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, নিয়মিত ভেজালবিরোধী মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার রাখা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া কারখানাটির সামগ্রিক পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর।

 

জনস্বার্থে এ ধরনের যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।