পুকুরের মাছ নিয়ে বিরোধ, বসতঘরে আগুন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে পুকুরের মাছ ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সুলতান সর্দার (৫৫)।
সুলতান সর্দার উপজেলার রোস্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তিনি মো. সেলিম (৩০), মো. কাওছার (৪৫), মো. ইমামুল (২৮) ও মো. বিপ্লব (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, সুলতান সর্দার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাড়ির অদূরে নিজস্ব পুকুরপাড়ের পশ্চিম পাশে একটি পাহারার ঘরে নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন। প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুলতান সর্দারের অভিযোগ, গত ৩০ আগস্ট দিবাগত রাতে কুকুরের ডাক ও শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ঘরের ছাউনিতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি দ্রুত নাতনিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযুক্তকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তরা অন্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আগুনে ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী, টেবিল ফ্যান, সিলিং ফ্যান ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। বর্তমানে সেখানে বসবাসের মতো কোনো পরিবেশ নেই বলেও দাবি করেছেন সুলতান সর্দার।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে রোস্তমপুর বাজারে ৩ নম্বর অভিযুক্ত এবং ৪ নম্বর অভিযুক্তের বাবা তাঁকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন সুলতান সর্দার। তাঁর দাবি, তাঁকে পুকুরের মাছের ওপর সব দাবি ছেড়ে দিতে এবং পুকুরপাড় থেকে সরে যেতে বলা হয়। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে বলেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
সুলতান সর্দারের দাবি, তাঁর পুকুরে বর্তমানে আনুমানিক আট লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এ নিয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, যেকোনো সময় তাঁর ওপর আবার হামলা হতে পারে।
অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছ রক্ষা এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।