নওগাঁয় কবর থেকে কঙ্কাল চুরির অভিযোগ স্কুল ছাত্রের বিরুদ্ধে
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর ধামইরহাটে সাত মাস আগে দাফন করা এক ব্যক্তির কবর খুঁড়ে মরদেহের কঙ্কাল চুরির অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল ছাত্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কবরের মাটি খোঁড়া এবং ভেতরে মরদেহের কঙ্কাল না থাকার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজিপাড়া গ্রামের একটি কবরস্থানে। অভিযুক্ত সিয়াম হোসেন (নামটি অভিযোগের সূত্রে) ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে কাজিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে বড়শিবপুর কাজিপাড়া এলাকায় মোখলেছুর রহমানকে দাফন করা হয়। সম্প্রতি স্থানীয়রা কবরস্থানে গিয়ে একটি কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে কবরটি পরীক্ষা করে মরদেহের কঙ্কাল নেই বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থানে জড়ো হন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা।
মোখলেছুর রহমানের ছেলে ও জগদ্দল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস হোসেনের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে সিয়াম হোসেনের নাম সামনে আসে। প্রথমে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কয়েক শ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিয়াম কঙ্কাল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে আমার বাবার কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করা হয়েছে। আমি কোথাও এর সঠিক বিচার পাচ্ছি না। আমার বাবার কঙ্কাল চুরির ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মওদুদ আহমেদ মহিরের বক্তব্য এ বিষয়ে ভিন্ন। জাহানপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই সদস্যের কাছে শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিতি এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।