বগুড়ায় যুবদল নেতা সম্রাট বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদাদাবির অভিযোগ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:২৮ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৪০ বার।

বগুড়া শেরপুরে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় ফলপট্টি এলাকার এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটায় শেরপুরের মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস অফিসে অতর্কিত প্রবেশ করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বাহিনী এই হামলা করে। এ ঘটনায় একইদিন রাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বাদী হয়ে শেরপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

থানার এজাহার ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট গত ৮ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সায়েম ট্রাভেলস এর অফিসে এসে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরকে অকথ্য ভাষায় হুমকি দিয়ে তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রবাসী আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করেন। একই সাথে চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলসহ শেরপুরে ব্যবসা করতে দিবেনা মর্মেও হুমকি দেন। যার ধারাবাহিকতায় ১০ই সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সম্রাটের প্রত্যক্ষ মদদে তার নিজস্ব বাহিনীর ৫০ থেকে ৬০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য শেরপুরের সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস প্রতিষ্ঠানটিতে অতর্কিত প্রবেশ করে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা কর্মচারীদেরকে নানাভাবে শাসাচ্ছে এবং ধমকাচ্ছে। চরম উগ্রতা নিয়ে তারা বারবার প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল মান্নান ও তার সন্তানদের খুঁজতে থাকেন। দীর্ঘসময় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে দোকানের শাটার নামিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় দোকানের টেবিলে থাকা নগদ এক লক্ষ দশ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয় এজাহারে। এদিকে এই ঘটনার পরপরই যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটি স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফাত।

ঘটনা প্রসঙ্গে মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস এর পরিচালক মামলার বাদী মো: আব্দুল্লাহ আল রাফাত জানান, তিনি নিজে শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। অথচ তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে এমন সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও চাঁদাদাবির ঘটনায় তারা নিজেরাই আতঙ্কিত ও হতবাক। রাফাত অভিযোগ করে বলেন, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে অভিযুক্ত সম্রাট ভাড়া বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্রাটের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তার বাহিনী দিয়ে যে নেক্কারজনক ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। তিনি আরো জানান, তার বাবা একজন সফল ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা। অথচ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটবে তা তারা নিজেরাও কখনো কল্পনা করেননি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী।

এদিকে ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আর মামলা প্রসঙ্গে বগুড়া শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তারা বৃহস্পতিবার রাতেই একটি এজাহার পেয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।