বগুড়া জেলার সেরা তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার জয়নুল আবেদীন

শেরপুর (বগুড়া) উপজেলা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৭ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

কোনো ক্লু ছিল না। নিখোঁজের পর শিশুটির সন্ধানে নেমে তদন্তকারীদের সামনে ছিল অন্ধকার। তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ ও পেশাদার তদন্তে সেই অন্ধকার ভেদ করে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যাকাণ্ডের রহস্য। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যেই শনাক্ত হয় হত্যাকারীরা, উদ্ধার হয় শিশুটির মরদেহ এবং জব্দ করা হয় চুরি যাওয়া মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

 

এমন দুরূহ ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ নির্বাচিত হয়েছেন বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন । বগুড়া জেলার সেরা তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ নিজ কার্যালয়ে জয়নুল আবেদীনের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে রোববার বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদও তার পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

 

মামলার বিবরণ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শেরপুর থানার ররোয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু রাজু হোসেন নিখোঁজ হয়। প্রতিবেশী মোত্তাকিন (২২) বিস্কুট ও চকোলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাটারিচালিত মিশুক গাড়িতে করে শিশুটিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

 

পরে চুরির ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মোত্তাকিন তার সহযোগী আব্দুল করিম (৪২)-এর সঙ্গে মিলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার গাবরগাড়ী গ্রামের একটি ধানক্ষেতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ এবং কাদার নিচে মাথা চেপে ধরে নির্মমভাবে হত্যা করে বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে। এরপর মরদেহ ধানক্ষেতে গুম করে তারা।

 

মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কোনো প্রত্যক্ষ ক্লু না থাকা। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে একে একে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

 

তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামি মোত্তাকিন এবং শেরপুর থেকে আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের ধানক্ষেত থেকে শিশু রাজু হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও জব্দ করে পুলিশ।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোত্তাকিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সেখানে সে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

একটি ক্লুলেস শিশু হত্যা ও চুরির মামলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, পেশাদার তদন্ত এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনায় পুলিশ বিভাগে প্রশংসিত হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন।