বগুড়ায় সিএনজি চালক কলেজছাত্র খায়রুল ফিরিয়ে দিলেন হারিয়ে যাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণসহ নগদ টাকা

অরুপ রতন
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ২৪:২৯ ।
বিশেষ
পঠিত হয়েছে ৩৭৯ বার।

সিএনজি চালান জীবিকার জন্য, কিন্তু মনটা গড়ে তুলেছেন একজন শিক্ষার্থীর মতো। শুধু এক ব্যাগ স্বর্ণ নয়—একটি সমাজকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বাস। বগুড়ার তরুণ খায়রুল ইসলাম তার সততা ও মানবিকতায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

 

ঘটনাটি ২৯ মার্চের। পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন ব্যবসার কাজে বগুড়ায় আসেন। তিনি ১৮ ভরি স্বর্ণ কেনেন এবং সেই স্বর্ণ ও নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে রেখে একটি সিএনজিতে উঠেন। বনানী এলাকায় পৌঁছে হঠাৎ 'নবীন বরণ' লেখা একটি বাস দেখে তাড়াহুড়ো করে তাতে উঠে পড়েন। সিএনজিতে রয়ে যায় তার সেই কালো ব্যাগটি।

 

পরবর্তীতে শাজাহানপুরে ইফতারের বিরতিতে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোথাও কিছু না পেয়ে শেষে বাড়ি ফিরে যান ভেঙে পড়া মন নিয়ে।

 

এদিকে যিনি ব্যাগটি খুঁজে পান, তিনি শুধু একজন সিএনজি চালকই নন—তিনি সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খায়রুল ইসলাম। দিনভর সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালান এই তরুণ। তিনি পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শুক্রবার রাতে সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিক শাহিনের হাতে ব্যাগটি তুলে দেন। ব্যাগে থাকা ১৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা ছিল একদম অক্ষত।

 

ব্যাগ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহিন বলেন,“আমি ভেবেছিলাম সব হারিয়ে ফেলেছি। খায়রুলের সততা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ওর মতো মানুষ থাকলে সমাজের কোনো ভয় নেই।”

 

ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, “খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। সে শুধু সৎ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিকও।”