বগুড়ায় ভ্যাট বিভাগীয় কর্মকর্তার সাথে উচ্চ পর্যায়ের বেকারি মালিক সমিতি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
স্টাফ রিপোর্টার
বেকারি শিল্পের উন্নয়ন, বৈধ ব্যবসার সুরক্ষা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগীয় কার্যালয়ে উপ-কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বেকারি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বেকারি শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (সিআইপি) বলেন, বেকারি শিল্প টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণ করা জরুরি। ফুটপাতে পরিচালিত ও অনিবন্ধিত অনেক ব্যবসা কোনো ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স ছাড়াই নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছে। এতে নিবন্ধিত খাদ্য প্রস্তুতকারী ও বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বেকারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গ বেকারি মালিক সমিতি ও জেলা বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি এবং আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, বেকারি শিল্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হচ্ছে। আমরা আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করি এবং সরকারকে নিয়মিত ভ্যাট প্রদান করি। তিনি বৈধ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিবন্ধনবিহীন ব্যবসায়ীদেরও ভ্যাটের আওতায় এনে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের উপ-কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. শামীম উল আলম ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বেকারি শিল্প দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি সরকার নির্ধারিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং সময়মতো ভ্যাট পরিশোধের আহ্বান জানান। অনিবন্ধিত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য দিয়ে ভ্যাট বিভাগকে সহযোগিতা করলে তাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী ভ্যাট ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সভায় সকলে বেকারি শিল্পের উন্নয়ন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।