বগুড়ার প্রবীণ সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান আর নেই

প্রকাশ: ০৭ অগাস্ট ২০২৬ ২০:৩৮ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃতি সন্তান, প্রবীণ সেনা কর্মকর্তা, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বগুড়া মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার সিএমএইচ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে বাদ এশা তার নিজ গ্রাম বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ফুলবাড়িয়া এইচএমভি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ১৯৬২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে আটক থাকার পর ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে পুনরায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবনে তিনি ১৯৮১ সালে গাজীপুরে সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিডিআর (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-এর সেক্টর কমান্ডারসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা ও সমাজসেবায়ও তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। নিজ এলাকায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বগুড়া এসপি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া মহিলা কলেজ। পাশাপাশি তিনি ‘যমুনা এক্সপ্রেস সিকিউরিটি সার্ভিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।

অবসর গ্রহণের পর তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আহ্বানে রাজনীতিতে যোগ দেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মরহুমের ছোট ভাই জাহিদুর রহমান জাহিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার সিএমএইচে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।