মানুষের ফ্রী চিকিৎসায় সারাজীবনের জমানো টাকায় ফ্রী মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করলেন অধ্যাপক মুসা
মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া)
নিজ এলাকার মানুষের ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য চাকুরি শেষে পেনশনের পাওয়া টাকা ও সারাজীবনের জমানো টাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কাহালু উপজেলার শেখাহারে অত্যধুনিক কমিউিনিটি ডেন্টাল ও মুসা আয়ান ফ্রী মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করলেন অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন খন্দকার মুসা।
জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা না হলে শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কমিউনিটি ডেন্টাল সেন্টারে দাঁতের চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার শুরুর দিন যারা এখানে এসেছেন তাদের সকলেরই দাঁতের পরীক্ষা, ঔষুধ, টুথপেষ্ট ও টুথব্রাশ ফ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় এই কমিউনিটি ডেন্টাল সেন্টারে মানুষের দাঁতের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুকি মেশিন ও যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। এখানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বিসিএস ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা। ডাঃ মুসার নিজের অর্থে নির্মিত ৭তলা বিশিষ্ট এই ভবণের ৫ম তলা পর্যন্ত একটি পাঠাগারের জন্য রাখা রুম ছাড়া সবগুলোই ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীসহ সকল মানুষের জ্ঞানচর্চার জন্য ডাঃ মুসা পাঠাগার উন্মুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের দাঁতের চিকিৎসা সেবাও শুরু হয়েছে। আগামীতে মাঝে-মধ্যে এখানে বিশেষজ্ঞ ডাঃ এনে সব ধরণের রোগের ফ্রী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
ডাঃ মুসা পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. সিজাজুল হক মুন্টু ও স্থানীয় অনেকেই জানান, অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন খন্দকার মুসা ১৯৬৫ সালে ৯ অক্টোবর কাহালুর ভোলতা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্যগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম খন্দকার মোঃ মোকলেছুর রহমান। তাঁর ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল অর্থের অভাবে যারা উন্নত চিকিৎসা করতে পারে না, তাদের জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার। তিনি ছাত্রজীবনেই সকলের সহযোগিতায় বড় বড় ডাক্তার এনে নিজ এলাকায় মাঝে মধ্যেই ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্প করতেন। তাঁর চেষ্টায় অনেক অসহায় মানুষ মাঝে-মধ্যেই বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নিজে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হয়ে স্বাস্থ্য বিভিাগের উচ্চ পদে কর্মরত অবস্থায় ছাত্রজীবনের ধারাবাহিকতায় অনেকবার ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্প করে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। তিনি ঢাকার মহাখালী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ( ডিজিএমই) এর মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড হেলথ ম্যানপাওয়ার ডেভলপমেন্টের লাইন ডিরেক্টর পদে সততার সাথে চাকুরির মেয়াদ পূর্ণ করে অবসর নেন ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। অবসর নেওয়ার পর ছোটবেলার দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজের সম্পত্তির উপর তাঁর পেনশনের টাকা ও সারাজীবনের জমানো টাকায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে একটি ৭তলা ভবন নির্মাণ করেন। মুমূর্ষ রোগীদের নীচতলা থেকে টলি দিয়ে উপর তলায় নিতে রাখা হয়ে অত্যাধুনিক লিফট। এলাকার মানুষ যাতে ফ্রী চিকিৎসা ও যতসামান্য খরচে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পান তার জন্যই তিনি আন্তরিকভাবে সারাজীবনের সঞ্চয়ের টাকায় মানব কল্যাণে এই কাজটি করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন।
অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন খন্দকার মুসা জানান, আমার পেনশন ও সারাজীবনের জমানো টাকায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এই ভবন নির্মান করেছি। এলাকার মানুষের দাঁতের চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরণের চিকিৎসা সেবা এখান থেকে দেওয়ার জন্য আমার প্রচেষ্টা রয়েছে। এখানে সপ্তাহে একদিন দাঁতের ফ্রী চিকিৎসা সেবা পাবেন সকলেই। ডাক্তার ও কর্মচারী হিসাবে যারা এখানে নিয়মিত বসবেন তাদের ব্যায় মেটানোর জন্য যতসামান্য খরচ নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। এছাড়াও মুসা আয়ান ফ্রী মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল সেন্টার সম্পূর্ণ ফ্রী চিকিৎসা সেবায় সাধ্যমত নিয়োজিত থাকবে।