বগুড়ায় নানীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ নাতির বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাতিকে ঘরে তালাবদ্ধ দেখে তালা খুলে দিয়েছিলেন নানী। অভিযোগ উঠেছে, ঘর থেকে বের হয়েই ক্ষিপ্ত হয়ে সেই নাতি নানীকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
রবিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাতুন বেওয়া (৬০) ওই গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন ফকিরের স্ত্রী। তিনি বিধবা ছিলেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর নাতি সামছুল হককে (২৯) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। সামছুল হক একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামছুল হককে কয়েক দিন ধরে তাঁর মা ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখছিলেন। রোববার বিকেলে নানী খাতুন বেওয়া ওই বাড়িতে গিয়ে নাতিকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ঘরের তালা খুলে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘর থেকে বের হওয়ার পর সামছুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে নানী খাতুন বেওয়াকে ওড়না দিয়ে বেঁধে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে লাথি ও কিলঘুষি মারতে মারতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সামছুল হককে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সামছুল হককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।