শজিমেকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ, ইন্টার্নদের বিচার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে দায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে শহরের বিসিক জেলা কার্যালয়ের পাশে সড়কে ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত আব্দুল মালেকের মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে ভুল ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসার নথি পরীক্ষা করে তাঁরা দেখতে পান, আব্দুল মালেকের পরিবর্তে ‘ইখলাস’ নামের অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তাঁর বাবাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
মনিকা বেগম বলেন, বিষয়টি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জানানো হলে তাঁরা ভুল স্বীকার না করে স্বজনদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে স্বজনদের মারধর করা হয়। তাঁর অভিযোগ, পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং নতুন করে ফাইল তৈরি করা হয়।
মনিকা বলেন, ‘আমার বাবাকে ভুল ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হলো। প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আমাদের ওপর হামলা চালান। আমার ছেলে ও তার বন্ধুদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের মামলা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি ভুল চিকিৎসায় তাঁর বাবার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং গ্রেপ্তার সন্তানদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে গ্রেপ্তার প্রান্তের মা নাজনীন আক্তার ও নাফিউলের স্ত্রী মিতু খাতুন অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁদের কাউকে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়নি। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের হামলায় রোগীর স্বজনেরাই গুরুতর আহত হয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
বক্তারা গ্রেপ্তার ছয়জনকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহারও দাখিল করা হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতা ছিলেন। পরে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত এবং আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়।
প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের পর চার দফা দাবিতে চলা কর্মবিরতি স্থগিত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। গত শুক্রবার দুপুর থেকে তাঁরা সাময়িকভাবে কাজে ফিরেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।