বগুড়ায় ফাঁকা গুলি ছুড়ে যুবককে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:১৬ ।
প্রধান খবর
পঠিত হয়েছে ১৭৬ বার।

বগুড়ায় আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফাঁকা গুলি ছুড়ে মহড়া ও এক যুবককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার ভোর সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার নিশিন্দারা চকরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তার দুজন হলেন বগুড়া মহানগরের উত্তর চেলোপাড়ার আজাদ বেপারীর ছেলে মো. নাজমুল হুদা রাফিত (২১) এবং নিশিন্দারা চকরপাড়ার বাদল আকন্দের ছেলে মো. হাছান আকন্দ (২৪)। 

 

 রোববার রাত ১১টার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান।

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বারোপুর মৌজায় ন্যাশনাল ফ্যান কোম্পানির মালিকানাধীন ৩২ বিঘার একটি আমবাগান লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে মামলার আসামি রাফসান ও ভুক্তভোগী মো. মোকছেদুল হাসানের (৩৮) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মাটিডালী উত্তরপাড়ায় জারা কার হাউসের বিপরীতে বসে থাকা মোকছেদুলের ওপর হামলা চালানো হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মোটরসাইকেল ও হাইস গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে আসে। তাঁদের কয়েকজনের হাতে পিস্তল, রামদা ও হকিস্টিক ছিল। সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দিতে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তাঁরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে মোকছেদুলকে একা পেয়ে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

 

হামলায় গুরুতর আহত মোকছেদুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ জেলা পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বোরের পিস্তলের দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

 

এ ঘটনায় মোকছেদুলের মা মোছা. রেবেকা বেগম বাদী হয়ে আজ ৬ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার হাছানের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।