বগুড়ায় বেড়ে উঠছে মরুর প্রাণী দুম্বা

অরুপ রতন শীল
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২২ ১৯:৪২ ।
বিশেষ
পঠিত হয়েছে ১১০ বার।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে বেড়ে ওঠা সেই দুম্বা এখন বগুড়ায় পালন করা হচ্ছে। শাজাহানপুর উপজেলায় লিফ্ট প্রজেক্টের সহযোগিতায়  টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামারে বেড়ে উঠছে এসব দুম্বা। বর্তমানে ওই খামারে ২১টি দুম্বা লালন-পালন করা হচ্ছে।  এগুলোর মধ্যে রয়েছে পারশিয়ান জাতের একটি ও আওয়াসি জাতের ২০টি দুম্বা।  


খামারে গিয়ে জানা গেছে,  ২০১৯ সালে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা ১০টি দুম্বা দিয়ে এই খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তখন থেকে বর্তমানে ২১টি দুম্বা রয়েছে। এর মধ্যে পরিণত বয়সের পুরুষ জাতের ৩টি ও ৫টি স্ত্রী জাতের। এছাড়া ৭টি পুরুষ বাচ্চা এবং বাকি ৬টি স্ত্রী জাতের বাচ্চা। দুম্বা নিয়মিতভাবে ছয় মাস পর পর বাচ্চা দেয়।


খামারে কাজ করা ইউসুফ আলী জানান, দুম্বা বাইরের দেশের প্রাণি হলেও আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে মিল রেখে এদের পালন করা সম্ভব। দুম্বা পালনে খরচ কম। এদের দুই বেলা দানাদার খাবারসহ চারবেলা খাবার দিতে হয়। এছাড়া সপ্তাহে একদিন গোসল করাতে হয়। এরা গরু ছাগলের মত সবুজ নেপালী ঘাস, খড়, গম, ভুট্টা, ছোলা, গাছের পাতা , সয়াবিন, খৈল, জিসিপি লবণ ইত্যাদি দুম্বার প্রিয় খাবার। 


 খামারে কাজ করা নাজমুল হক নামে আরেক শ্রমিক জানান, এরা দলবদ্ধভাবে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এদের লালন পালন করা সহজ। এছাড়া অন্যান্য পশুদের চেয়ে এদের রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও অনেক কম। 


টিএমএসএস বহুমুখী কৃষি খামার (লিফ্ট) প্রজেক্টের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভীন বলেন, ‘দুম্বার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। সাধারণ কিছু অসুখ ছাড়া তাদের জটিল কোন সমস্যা দেখা যায়নি। মূলত দুম্বাও আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে উপযোগী হয়ে উঠছে। এছাড়া গড়ে প্রতি দুম্বার ৪৫০ গ্রাম খাবারের প্রয়োজন হয়। তাই এটি পালনে বেশি খরচও হয় না।'


তিনি আরও বলেন,  ‘এই প্রজেক্টের মাধ্যমে- মাঠ পর্যায়ে ২০ সুবিধাভোগী সদস্যের দারিদ্র্য বিমোচনে দুম্বার বংশ বিস্তার করে এক জোড়া করে (নারী-পুরুষ) দুম্বা তাদের মাঝে বিতরণ করা মূলত দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই এই প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে।‘

 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'দুম্বা ও ভেড়া কাছাকাছি প্রাণী। দুম্বা মরুর প্রাণী হলেও এটি একটি সহনশীল প্রাণী। দেখতে ভেড়ার মতো তবে পেছনের অংশ ভারী। ভেড়ার মতোই দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। মাংস উৎপাদনে ছাগল-ভেড়ার চেয়ে বেশি কার্যকরী। কোরবানির সময় থাকে প্রচুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। আমাদের এই পরিবেশে দুম্বা পালন তেমন কোনো সমস্যা হয় না, তাই এই খাতে রয়েছে নতুন সম্ভাবনা।'