বগুড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির মামলা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৯ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ৭৪ বার।

বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, কর্মচারীদের মারধর এবং পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত হিসেবে এজাহারে যুবদলের আরও ১২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর শেরপুর সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ও সায়েম ট্রেডার্সের পরিচালক এবং শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত (৩৩) বাদী হয়ে ওই মামলাটি দার করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ও সায়েম ট্রেডার্স নামে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম মণ্ডল সুরুজের কাছে মালিকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলার এজাহারে দাবি করেন বাদী। চাঁদার টাকা না দিলে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জায়গা দখল করে নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, এর দুই দিন পর গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলাম সম্রাটের নেতৃত্ব ও মদদে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তাদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ঢুকেই তারা পুনরায় পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে কার্যালয়ের টেবিলের ওপর থাকা একটি ব্যাগ থেকে নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

বাদীর বক্তব্য

মামলার বাদী ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল রাফাত বলেন, তাঁরা একই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এরপরও তাঁদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও সরকারি অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে ওই যুবদল নেতা ভাড়া-বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার যুবদল নেতার

তবে বাদীর আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি শেরপুর শহরের গোসাইবাড়ী বটতলা এলাকায় ছিলাম। এছাড়া সেখানে চাঁদা দাবি, হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

তিনি দাবি করেন, মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তাঁর ভাষ্য, বাদীপক্ষ স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও হয়রানি করতেই থানায় মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে। সেখানে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

পুলিশের বক্তব্য

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা নেয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এজাহারে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে এলে দায়ীদের গ্রেপ্তার পূর্বক বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূল শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।