সালমান শাহর মৃত্যু: পিবিআই’র চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা

পুণ্ড্রকথা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১০:৫৯ ।
প্রচ্ছদ
পঠিত হয়েছে ১১৪ বার।

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের ডেসপাস শাখায় এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

বাসস জানায়, ৬০০ পৃষ্টার প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেন পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। ডেসপাস শাখার ইনচার্জ উপপরিদর্শক আবুল হাসান ভূইয়া ও সহকারী উপ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পিবিআই’র প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই’র তদন্ত কালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় এবং ১০ জন জনের সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়।

এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেওয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তখন অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী (প্রয়াত)।

পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত শেষে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।